প্রেস বিজ্ঞপ্তি:-
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, কৃষি ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ ও বন্টনের নিমিত্তে মোগল সম্রাট আকবর বঙ্গীয় সমাজে বাংলা নববর্ষ ও ঋতুভিত্তিক বর্ষপরিক্রম রচনা করেছিলেন। তার সূত্র ধরে আজ যুগ যুগ ধরে বাংলার নববর্ষ বরণ ও বর্ষবিদায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়েক উৎসবে পরিণত
হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় আমরা চৈত্র মাসের খরতাপে এবং বৈশাখীর রৌদ্র-বাতাস-বৃষ্টিসহ সমস্ত প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে বাঙালী হিসেবে ঐতিহ্যের শিখরকে নিজের হৃদয়ে ধারণ করি। এমনকি আমাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যানুযায়ী এই অসাম্প্রদায়ীক উৎসব উদযাপনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে যাচ্ছে। তিনি আজ সকালে জেলা শিশু একামেডিক মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথাগুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, সমাজ সভ্যতার ক্রমবিকাশে নানাণ ঘাত-প্রতিঘাত আছে। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ আপন সংস্কৃতি ও কৃষ্টির পরিচর্যা করা। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সংস্কৃতিক চেতনা বোধের একটি স্বাধীন জাতি সত্তা, এ জাতি সত্তাকে
যে কোন মূল্য রক্ষা করতে হবে। প্রধান আলোচকের ভাষণে চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আইন অনুষদের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. জাকির হোসেন বলেন, বাংলা বাংলা বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ শুধুমাত্র পোশাকী আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটা আমাদের অস্তিত্বের ভিতকে প্রতিদিনের জন্য অনুভবের তাগিদ দেয়, এ সত্যাটিকে উপলদ্ধি করে আমাদের সন্তানদের আলো, বাতাস, গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালির ভালবাসায় প্রাণিত করতে হবে। সভাপতির ভাষণে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অনুপ বিশ্বাস বলেন, একটি বর্ষ কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেও আরেকটি বর্ষ আগামীকালের নতুন সূর্যোদয়ে এনে দিতে পারে, আমরা যদি পরিশুদ্ধমনে প্রতিদিনের জীবন যাপনকে পরিশুদ্ধ করতে পারার প্রেরণা। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা শিশু একাডেমির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কুমকুম বড়ু য়া, মানবাধিকার সংগঠক হাজী মোহাম্মদ আবু সিদ্দিক, জোটের সহ-সভাপতি জাহেদুর রহমান সোহেল, তানভীর আহমেদ রিংকু। আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিক কর্মী মাসুদ উদ্দীন হামেদ নওয়াজ, হারুনুর রশিদ, মো. ইসমাইল, জাহেদুল আলম রিংকু, টিপু দাশ প্রমুখ। বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানে দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন জেলা শিশু একাডেমীর শিল্পীবৃন্দ, দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন চারুতা নৃত্যকলা একাডেমী পরিচালনায় নৃত্যশিল্পী ফজল আমিন শাওনা, যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেন জেলা শিশু একাডেমীর শিল্পীবৃন্দ পরিচালনায় যন্ত্রশিল্পী পলাম কুমার দেব।
Discussion about this post